যশোর রুপদিয়া আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিও আবেদনে মহা জালিয়াতি


মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর :
প্রকাশের সময় : জুলাই ৩১, ২০২২, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ / ১০২
যশোর রুপদিয়া আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিও আবেদনে মহা জালিয়াতি

যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিও ভূক্তিতে তথ্যগত শুভঙ্করের ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের এই স্কুলের শিক্ষার্থী দেখিয়ে সেই ভর্তি রেজিস্ট্রার জমা দিয়ে এমপিও ভুক্তির আবেদন করা হয়।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক জালিয়াতি করে স্কুলটি এমপিও ভুক্ত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু শিক্ষার্থীই নয় রাতারাতি নিয়োগ বানিজ্য করে ব্যাপক অর্থ জালিয়াতি করে সেসব শিক্ষকদের কাগজপত্রে ৫/৭ বছরের
নিয়োগ দেখানো হয়েছে।

জানা গেছে, সর্বশেষ এমপিও ভূক্তিতে নাম রয়েছে রুপদিয়া আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। তবে ১০নং চাঁচড়া ইউনিয়নের রুপদিয়া আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তথ্যগত ব্যাপক জালিয়াতিতে জড়িত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক।

স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেনী, সপ্তম শ্রেনী ও ৮ম শ্রেনীতে মাত্র ১৩ জন শিক্ষার্থী থাকলেও দলিল তথা কাগজ-পত্রে দেখানো হয়েছে শতাধিক।

এক্ষেত্রে পাশ্ববর্তী বাদুড়তলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও হাজিরা রেজিস্ট্রার এই স্কুলে দেখানো হয়েছে। বাদুড়তলা স্কুলের
শিক্ষক বাবু এই কাগজপত্র সরবরাহ করেছেন। তিনি আগে রুপদিয়া আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষক বাবুর বাড়ি মনিরামপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে।

এছাড়াও শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা দেখানো হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের চাহিদা মাফিক। কিন্ত রাতারাতি নিয়োগ বানিজ্য করে
রুপদিয়া আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শ্রী চিত্তরঞ্জন হালদার ও প্রধান শিক্ষক শ্রী প্রশান্ত রাজবংশী এসব কাগজপত্র ঠিকঠাক প্লেস করেছে।

স্থানীয় গ্রামবাসী জানায়, প্রধান শিক্ষক ছাড়াও জনৈক মশিয়ার রহমান, পলাশ ও খরিচাডাঙ্গার চন্দনকে রুপদিয়া আদর্শ
নিম্ব মাধ্যমিক বিধ্যালয়ের শিক্ষক দেখানো হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকজন শিক্ষক তালিকাভূক্ত। তবে এরা রাতারাতি নিয়োগ পেয়েছেন। স্থানীয়রা কেউ তাদের চেনেনা। কাগজপত্রে তাদের পুরাতন শিক্ষক দেখানো হলেও বাস্তবে তারা ২/১দিনে নিয়োগ পেয়েছে। এসব নিয়ে আশপাশ এলাকায় নানা মুখরোচক আলোচনা সমালোচনা চলছে।

অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্কুল সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক অর্ধকোটি টাকার বানিজ্য করেছেন। প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত রাজবংশী সদর উপজেলার ১১ নং রামনগর ইউপির কামালপুরের বাসিন্দা। রুপদিয়া সাড়াপোল ভাতুড়িয়া গ্রামবাসী ও দূর্নীতি সত্য উদঘাটন পরিষদ সাড়াপোলের নেতৃবৃন্দ এক অভিযোগ পত্রে জানিয়েছেন, রুপদিয়া আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিও ভুক্ত হয়েছে। এটি আনন্দের।

আরও পড়ুনঃ আগামীকাল শোকাবহ আগস্ট শুরু

কিন্ত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন হালদার ও প্রধান শিক্ষক শ্রী প্রশান্ত রাজবংশী অসাদুপায় ব্যবহার করেছেন। তারা গোপনে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন অর্থের বিনিময়ে। স্কুলে সর্ব সাকুল্যে মাত্র ১৩ জন শিক্ষার্র্থী অথচ দেখানো হয়েছে ১০০+। পার্শ্ববর্তী বাদুড়তলা স্কুলের শিক্ষার্থী রুপদিয়া স্কুলে প্লেস করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০ লক্ষ টাকার দূর্নীতিতে জড়িত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যথাযথ তদন্ত করলেই তাদের মহা দূর্নীতির বিষয়টি স্পষ্ট হবে। স্থানীয়রাও সেটি দেখার অপেক্ষায়।

এবিষয়ে রুপদিয়া আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন হালদার জানান, এমপিও ভূক্তি হয়ে গেলে অনেকে উল্টা পাল্টা বলেন। এমপিও ভূক্তির আবেদনে কোন জালিয়াতি হয়নি। এসব কিছু মানুষের ব্যক্তি মতামত যার বাস্তবে কোন ভিত্ত্বি নেই।

Spread the love
Link Copied !!