মহাশুন্যে নভোচারীরা প্রসাব পায়খানা কিভাবে করে?


বন্ধন টিভি ডেস্ক
প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২, ২০২২, ২:৩৫ অপরাহ্ণ / ৬৩
মহাশুন্যে নভোচারীরা প্রসাব পায়খানা কিভাবে করে?

মহাশুন্যে নভোচারীরা প্রসাব পায়খানা কিভাবে করে? যেখানে কোন মধ্যাকর্ষণ শক্তি নাই, সেখানে প্রসাব পায়খানা নিচের দিকে বের হয় কি করে?
মহাকাশে রয়েছে আন্তর্জাতিক স্পেস ষ্টেশন… এটি শুন্যে অবস্থান করে পৃথিবীকে আবর্তন করছে।
এখানে চারটি ল্যাব রয়েছে, যেগুলোতে আমেরিকা, জাপান, ইইউ আর কানাডার বিজ্ঞানীরা মহাকাশ নিয়ে গবেষণায় লিপ্ত।
প্রায় জিরো মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এখানে (মাইক্রোগ্রাভিটি)। ফলে এটার ভেতর বিজ্ঞানী বা নভোচারীরা ভেসে থাকে।
প্রসাব-পায়খানা সবচেয়ে আরামের বিষয় হলেও, এখানে টয়লেট ব্যবহার করা বেশ ঝামেলারই।
প্রথমে কমোডে বসে সিটবেল্ট বাঁধতে হয়, যাতে কাজ করার সময় ভেসে উড়ে না যায়।
নাম্বার ওয়ান (প্রসাব) কাজের জন্য একটি লম্বা ফানেলের মত জিনিস থাকে। সেটি মুত্রনালীর মুখের সামনে ধরতে হয়। ফানেলের সাথে চুষে নেওয়ার জন্য সাকার মেশিন লাগানো থাকে। এরপর প্রসাব করা শুরু করলে সেটা সাকারের সাহায্যে টেনে নেয়।
নাম্বার টু কাজের জন্য কমোডে একই রকমের সাকার মেশিন থাকে। এর সাথে একটি বিশেষ ব্যাগ থাকে, যেখানে পায়খানাগুলো সংগ্রহ হয়। এরপর সেটিকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুকিয়ে নষ্ট করে ফেলা হয়।
সবচেয়ে মজার বিষয় হল, মহাশুন্যে পানি একটি দামী জিনিস। তাই সকলের প্রসাব একটি ট্যাঙ্কে জড়ো হয়। সেখানে জীবাণুমুক্ত ও পরিস্কার করে প্রসাব থেকে শুধু পানি অংশটুকু বের করে নিয়ে সেটা খাবার পানির রিজার্ভ ট্যাঙ্কে গিয়ে যোগ হয়। সেগুলোই আবার খাওয়া হয় কিংবা অন্যান্য কাজে ব্যবহার হয়।
তবে এর চেয়ে বেশি অবাকের জিনিস হল, প্রসাব পায়খানা করতে বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হলেও মেয়ে নভোচারীদের পিরিওডের ব্লিডিং কিন্তু নরমালিই হয়। এটার বৈজ্ঞানিক ব্যাখা এখন পর্যন্ত বের করা যায় নি।
ঘুমানোর ক্ষেত্রে উপর নিচ, দাঁড়ানো বা শুয়া বলতে কিছু নাই। স্লিপিং কম্পার্টমেন্টের ভেতর গিয়ে পা উপরে মাথা নিচে করে উল্টো হয়ে ঘুমাতে পারেন কিংবা দাঁড়িয়েও ঘুমাতে পারেন। সব অনুভুতি একই রকম।
খাবার খেতে কোন টেবিল লাগে না। শুন্যে ভেসে থাকা প্লেট থেকেই খাবার খাওয়া যায়। তবে প্রত্যেকটি জিনিসের সাথে চুম্বক লাগানো, যাতে সেগুলোকে সহজেই স্পেস স্টেশনের লোহার দেয়ালের সাথে আটকে রাখা যায়।
তবে খাওয়ার সময় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হয় যাতে খাবারের কোন অংশ কোথাও উড়ে না যায়। এতে কোন একটা যন্ত্রের মধ্যে ঢুকে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
খাবারগুলো সাধারণত পৃথিবী থেকে প্লাস্টিকব্যাগে প্যাকেটজাত করে পাঠানো হয়। টিন বা ক্যান জাতীয় খাবার পাঠানো হয় না ওজনে ভারী ও পরিবহণ খরচ বেশি হবে বলে।
স্পেস স্টেশনের ভেতর খাবারগুলো গরম করার জন্য ওভেন আছে। সেখানে যার যখন দরকার খাবার গরম করে নেয়।
স্পেস স্টেশনে গোসল করা আরেক বিপত্তি। পৃথিবীর মত শাওয়ার ছেড়ে আরামে গোসলের সুবিধা নেই। মাইক্রোগ্রাভিটির কারণে পানি শাওয়ারের মত বেরও হবে না। তাছাড়া পানি নিয়ে যাওয়াও অনেক ব্যয়বহুল। পানি সেভ করার জন্য দাঁতমাজার টুথপেস্টকেও এমনভাবে বানানো হয়, যাতে তা খেয়ে ফেলা যায়।
গোসলের জন্য বিশেষ প্লাস্টিক ব্যাগে পানি থাকে। তোয়ালায় ভিজিয়ে সেটি দিয়ে গোসল করতে হয়। সাবান শ্যাম্পুগুলো এমনভাবে তৈরি যে ফেনা তৈরি হয় না এবং ব্যবহারের পর না ধুয়ে শুধু মুছলেই চলে।
আসলে মধ্যাকর্ষণ জিনিসটার যে কত উপকার তা আমরা পৃথিবীতে বসে টের পাই না। এই মধ্যাকর্ষণের ফলেই আমরা স্বচ্ছন্দে পৃথিবীতে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারছি।”
( সংগৃহীত )

Spread the love
Link Copied !!